আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে নয়

বিশ্বের ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বিয়ে হয় নিকটাত্মীয়ের মধ্যে। এ হার সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ এশিয়ায় যেখানে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ লোকের বসতি।
নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে নিয়ে আমাদের অনেক কিছুই অজানা, আসুন জেনে নেই নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান কী বলে?
নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে বিজ্ঞানসম্মত নয়। চাচাতো, মামাতো, খালাতো ও ফুফাতো ভাই-বোনদের মধ্যে বিয়ের পরিণামে যে সন্তান হয়, তার মধ্যে জন্মগত ত্রুটি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বেশি। দ্য ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে বিজ্ঞানীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার ফর হিউম্যান জেনেটিক্সের পরিচালক অধ্যাপক এলেন বিটলস বিশ্বব্যাপী বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তাঁর দেয়া তথ্য মতে, স্বাভাবিক ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের কারণে শিশু মৃত্যুর হার ১.২ শতাংশ বেড়ে যায় এবং স্বাভাবিক ক্ষেত্রে যেখানে বিকলাঙ্গ শিশু জন্মানোর হার ২ শতাংশ নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের ফলে এ হার দাঁড়ায় ৪ শতাংশে। উল্যেখ্য, অধ্যাপক এলেন বিটলস গবেষণার জন্য তিন পুরুষ পর্যন্ত নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়েকে ( first, second and third cousine marriage) বিবেচনা করেছেন এবং দেখা গেছে এ দূরত্ব যত কমতে থাকে অর্থাৎ আত্মীয় যত নিকটের হয়ে থাকে শিশু মৃত্যুর হার এবং বিকলাঙ্গ শিশু জন্মানোর হার তত বাড়তে থাকে। অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক হয়ে দাঁড়ায় যখন কোন এলাকায় নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে হওয়াটা রীতি হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সমস্যা আরও বিস্তৃত হয়ে পড়ে যেমন অন্ধত্ব, বধিরতা, বিভিন্ন চর্মরোগ এবং স্নায়ুকোষ ক্ষয় ।
সিস্টিক ফাইব্রোসিসে শরীরের জীন যা বংশগতির ধারক ও বাহক প্রতিনিয়ত অল্প অল্প করে পরিবর্তন হওয়া( mutation)সাধারণ জনগনের মধ্যে স্বাভাবিক একটি ঘটনা। কিন্তু কোন এলাকা/ সম্প্রদায় / গোষ্ঠীতে যদি একই জীন বারবার দেখা যায় অর্থাৎ জীনবৈচিত্র্য কমে আসে তাহলে এই মিউটেশনের হার খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। বংশগতির সাধারণ সূত্রানুসারে স্বামী ও স্ত্রী দুজনেরই যদি একই জীন লুকায়িত (recessive) থাকে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের ২৫% সম্ভাবনা থাকে প্রভাবিত/ আক্রান্ত হওয়ায় এবং ৫০% সম্ভাবনা থাকে এ জীনের বাহক হওয়ার।
যুক্তরাজ্যের ব্র্যাডফোর্ড শহরে বসবাসকারী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক গবেষণা চালিয়ে দেখা যায়, নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ের মাধ্যমে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের জিনগত অস্বাভাবিকতার হার সাধারণ শিশুদের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি। এসব অস্বাভাবিকতার মধ্যে নবজাতকের অতিরিক্ত আঙুল গজানোর মতো সমস্যা থেকে শুরু করে হূ ৎপিণ্ডে ছিদ্র বা মস্তিষ্কের গঠন-প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা দিতে পারে। অবশ্য সার্বিক বিবেচনায় এ ধরনের অস্বাভাবিকতার হার খুবই কম। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এয়ামন শেরিডান। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী সাড়ে ১৩ হাজার শিশুকে ওই গবেষণার আওতায় আনা হয়।
ব্র্যাডফোর্ড শহরে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের বড় একটি অংশ বসবাস করে। সেখানে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৩৭ শতাংশই রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের প্রচলন রয়েছে। সারা বিশ্বে ১০০ কোটির বেশি মানুষ এ রকম সংস্কৃতি ধারণ করে।
ইসলামি স্কলারগণ ও এ ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে বলেন ।
ইমাম শাফেয়ী (রহঃ)বলেছেন:

যে সম্প্রদায়ের মহিলারা বাইরের কোন পুরুষকে বিবাহ করে না এবং পুরুষেরা বাইরের কোন মেয়েকে বিবাহ করে না তাদের সন্তান হয় বোকা টাইপের।(আল ইনতিকা ফি ফাদায়িলিস ছালাছাতিল আয়িম্মাঃ ১/৯৮)

এছাড়া ইমাম গাযযালী (রহঃ) পাত্রী পছন্দ করার ব্যাপারে যেসব দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তন্মধ্যে একটা হল-পাত্রী যেন নিকটবর্তী আত্মীয় না হয়। কেননা, তা তাদের জৈবিক কামনাকে কমিয়ে দেবে। (ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন:২/৪১)
উল্লেখ্য যে, নিকটবর্তী আত্মীয়স্বজন যেমন-ফুফাতো, চাচাতো, মামাতো, খালাতো ভাই বোনদেরকে বিবাহ করা ইসলামে বৈধ রাখা হয়েছে। তবে, এদেরকে বিবাহ করলে সন্তান দুর্বল হয় বলে অনেক ইসলামিক স্কলারের অভিমত। সেজন্য বলা হয় বিবাহ দুরবর্তীদের সাথে হলেই ভালো হয়।
সুত্রঃ রয়টার্স ও এএফপি,প্রথম আল,ফেসবুক ।

এখানে আপনার মন্তব্য লিখুন (ফেসবুক লগ-ইন থাকতে হবে):

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com