ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ সারা বিশ্বেই একটি জনপ্রিয় সবজি। বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এই মিষ্টি মরিচের উৎপত্তি স্থান ব্রাজিল। বিশ্বে টমেটোর পরে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সবজি হচ্ছে মিষ্টি মরিচ। মিষ্টি মরিচ আমাদের দেশের প্রচলিত সবজি না হলেও ইদানীং এর চাষ প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে বড় বড় শহরের আশপাশে সীমিত পরিসরে কৃষক ভাইয়েরা এর চাষ করে থাকেন, যা অভিজাত হোটেল ও বিভিন্ন বড় বড় মার্কেটে বিক্রি হয়ে থাকে।  মিষ্টি মরিচ শুধু সবজি হিসেবেই নয়, এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন ও ক্যান্সার প্রতিরোধক জিন থাকায় এটি মানুষের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে সহায়ক।

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষের কিছু সাধারণ ইনফো ও টিপসঃ
১। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বাংলাদেশে সবজি চাষের এলাকায় চাষাবাদের উপযোগী বারি মিষ্টি মরিচ-১ উদ্ভাবন করেছে।
২। মানসম্মত মিষ্টি মরিচ উৎপাদনের জন্য ১৬ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেন্টিমিটার তাপমাত্রা ও শুষ্ক পরিবেশ সবচেয়ে উপযোগী।
৩। পলিথিন ছাউনি, পলি হাউস, পলি ভিনাল হাউসে গাছ লাগালে গাছের বর্ধন ও ফলন আশানুরূপ হয়।
৪। আশ্বিন (অক্টোবর) মাসে বীজ বপন করে কার্তিক (নভেম্বর) মাসে চারা রোপণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মার্চ ও এপ্রিলে গাছ থেকে ফলন পাওয়া যায়।
৫। অতি সহজেই টবে চাষ করা যায়।
৬। ক্যাপসিয়াম বা মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি ভালো। মিষ্টি মরিচ খরা ও গোড়ায় পানি জমা কোনটিই সহ্য করতে পারে না।
৭। এক বিঘা জমিতে মিষ্টি মরিচ চাষ করতে খরচ হয় মাত্র ৫৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ছয় হাজার গাছ লাগানো যায়। প্রতি গাছে গড়ে সাতটি করে ফল আসে। যার বাজার মূল্য প্রায় চার লাখ ২০ হাজার টাকা (আনুমানিক)।
৮। প্রতি শতকের জন্য ১ গ্রাম বীজ দরকার হয়। বীজ থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হয়।
৯। গাছে ফল ধরা শুরু হলে খুঁটি দিতে হবে, যাতে গাছ ফলের ভারে হেলে না পড়ে।
১০। ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচে কিছু পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। কৃষিকর্মীর সঙ্গে পরামর্শ করে অনুমোদিত বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
১১। ফল সংগ্রহের সময় প্রতিটি ফলে সামান্য পরিমাণ বোটা রেখে দিতে হবে।
১২। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে চাইলে এ সম্পর্কে বই পড়তে হবে অথবা কৃষিকর্মীর সঙ্গে পরামর্শ/প্রশিক্ষন নিতে হবে।

ক্যাপসিকাম

ক্যাপসিকাম রেসিপিঃ ক্যাপসিকাম ও সবজির সালাদ

ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ সম্ভাবনাঃ

১। পুষ্টিমানের দিক থেকে মিষ্টি মরিচ একটি অত্যন্ত মূল্যবান সবজি। প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এবং অতি সহজেই টবে চাষ করা যায় বলে দেশের জনসাধারণকে মিষ্টি মরিচ খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।
২। লাল-হলুদ-সবুজ ক্যাপসিকাম খাবারকে করে তোলে রঙিন। নুডুলস, সালাত, সবজি, পোলাও, ফ্রাইড রাইস ইত্যাদিকে করে তোলে পুষ্টিময় ও মজাদার।
৩। বাংলাদেশে বিদেশীদের/ পর্যটকদের অনেক পছন্দের ক্যাপসিকাম, এছারাও মিষ্টি মরিচ বিদেশে রফতানির সম্ভাবনাও প্রচুর।
৪। সহজে স্বল্প ব্যয়, পরিশ্রম ও ঝামেলায় বাড়তি ইনকাম, বেকারত্ব ও পুষ্টির চাহিদা নিবারনে ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ অন্যতম।

ক্যাপসিকাম রেসিপিঃ ক্যাপসিকাম ও সবজির সালাদ

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com