অভিভাবকরা প্লিজ পাশে থাকুন সন্তানদের

অনেক ছোট বয়স থেকে কোন পরীক্ষা দিতে আমি একাই যেতাম। বেশির ভাগ ছেলেমেয়েদের সাথে তাদের বাবা-মা যেত, পুরোটা সময় বসে থাকতো। আমার সাথে কেউ যেতোনা বলে কখনোই আমার মন খারাপ হতো না। বরং মনে হতো আমি বড় হয়ে গেছি!

২০০৪ সালে আমি মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা দেই। এবার ব্যতিক্রম ঘটে। আমার সাথে বাবা, চাচা, ফুফা গিয়ে পরীক্ষা হলের বাইরে পুরো সময়টাই দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়া আমার মা, ফুফুসহ অন্যরা বাসায় অস্থির সময় কাটায়। পরবর্তীতে আমি বুঝতে পেরেছিলাম আসলে পরীক্ষা আমি দিচ্ছিলাম সবার পক্ষ থেকে। তাদের অপূর্ণ স্বপ্ন যেন আমার ডাক্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে কিছুটা হলেও সত্যি হয়। সেদিনের সেই মানুষগুলোর অধিকাংশই এই পৃথিবীতে নেই আর। কিন্তু তাদের স্বপ্ন, আবেগ, অনুভূতিগুলো এখনও আমার মাঝে বেঁচে আছে।

২০১৫ সাল। আজ আবার মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল। কিন্তু দু’দিন আগে ধরা পড়েছে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ব্যবসায় জড়িত কতক কুলাঙ্গার। তাদের সাথে পাওয়া গেল কোটি টাকারও বেশি মূল্যমানের চেক। এসব চেক দিয়েছে অভিভাবকেরা। যারা চায় তাদের সন্তান ডাক্তার হোক। এই চাওয়ার জায়গাটায় আমি তাদের সাথে আমার বাবা-মার খুব মিল পাই। কিন্তু তাই বলে এভাবে প্রতারণা শেখাবে সন্তানকে স্বয়ং বাবা-মা। আর প্রতারণা করে যদি কেউ ডাক্তার হতেও পারে তারা কি এই মহৎ পেশার মহত্ত্বের ভার ধারণ করতে সক্ষম হবে নিজের মাঝে। ডাক্তার হতে পারার মাঝে কতটুকুই বা গৌরব। সকল কৃতিত্ব একজন সৎ মানুষ হতে পারার মাঝে। আর অভিভাবকরা প্লিজ পাশে থাকুন সন্তানদের। তাদের সংগ্রামে, সুসময় কিংবা দুঃসময়েও। কেননা আপনারা তাদের ভালই তো চান। নিজ হাতে সন্তানের নৈতিকতা নষ্ট করে কাউকে কি মুখ দেখানো যায়!

-ডাঃ রামিম ইসলাম ইবনে নুর

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com