বাজরিগার পালন করে আয়

বাজরিগার

বাজরিগার

বাজরিগার দেখতে টিয়ার মতো। টিয়ে প্রজাতির ছোট এই পাখিটি বিভিন্ন রংয়ের হয়। সারাদিন ক্যাচক্যাচ শব্দে মাতিয়ে রাখে। একটু যত্ন নিলেই শখের বাজরিগার থেকেও করা যায় বাড়তি আয়। এই পাখি সাধারণত প্রকৃতিতে ৩-৪ বছর বাঁচলেও খাচায় ৭-১০ বছর বাঁচে। বাড়িতে আলাদা সৌন্দর্য আনতে শৌখিন মানুষরা বাজরিগার পোষেন। এই জাতের পাখি পোষার জন্য খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। শুধু দরকার সঠিক পরিচর্যা। মাত্র  ১০  ফুট দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার একটি ঘরে প্রায় ১০০ জোড়া বাজরিগার পাখি পোষা যায়।

বাজরিগার পালনের উপকরণ

বাজরিগার পাখি, ঘর, খাঁচা, ভ্যাক্সিন, খাবার, খাবার পাত্র, পানির পাত্র, কলসি, ডিম পাড়ার হাড়ি (হাড়ির মধ্যে কিছুই দিতে হয় না, নারকেলের ছোবড়া জাতীয় কিছু থাকলে ওরা হাড়িতে ডিম দেয় না বরং হাড়ি থেকে ডিম ফেলে দেয় ) ইত্যাদি।

বাজরিগার এর খাদ্য
বাজরিগার এর রেডিমেড খাবার বাজারে পাওয়া যায়। রেডিমেড খাবার ঢাকার কাঁটাবনে পাওয়া যায়। নিজে তৈরি করে নিলে খরচ কমে যায়। বাজরিগার এর খাবার তৈরির জন্য আপনাকে চিনা, তিল, কাউন, ধান, এগ, শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি।

রোগ-নিরাময়
সাধারণত এই পাখির তেমন কোনো অসুখ হয় না। তবে খুব বেশি হলে রাণীক্ষেত রোগ হতে পারে। সবুজ মল ত্যাগ করা এই রোগের লক্ষণ। এছাড়া পাখায় একধরণের ঘা হতে পারে। যে কোনো রোগের ওষুধের জন্য কাঁটাবনের পাখির দোকানে গেলেই সমাধান পাওয়া যাবে।

যেখানে পাবেন
সারাদেশেই বাজরিগার পাখি পালন হয়। রাজধানীতে কাঁটাবন, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলিস্থানসহ বিভিন্ন হাটে এই পাখি পাওয়া যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক ও অনলাইন ক্রয়-বিক্রয় ওয়েবসাইটেও বাজরিগার পাওয়া যাবে।

ই টিপস
১। দু-তিন দিনের ট্রেনিং নিতে পারলে ভালো।
২। বাজরিগার পাখি পালন নিয়ে বাংলায় লেখা “বাজরিগার লালন পালন রোগ ও চিকিৎসা” বই কিনে নিবেন।
৩। বাজরিগার পাখির একটি খামার বা কেউ পালন করেন, এরকম কারো কাছ থেকে ধারনা নিবেন এবং দেখে আসবেন।
৪। ভালো ব্রিডারদের কাছ থেকে পাখি সংগ্রহ করবেন।
৫। ধৈর্য ও পরিশ্রম আপনাকে সফল বানাবে।

বাজরিগার পাখি পালনে সফল একজন

ইঞ্জিনিয়ার আরিফ মাহমুদ, ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে একজন প্রকৌশলী হিসাবে আছেন। বহুদিন কবুতর পালন করার পর একদিন একজন ব্রীডারের কাছ থেকে ৩ জোড়া রানিং বাজরিগার (রানিং অর্থ আগে বাচ্চা করেছে এমন পাখি) নিয়ে আসেন। বছরে ৫/৬ বার ব্রীড করতে সক্ষম হলেও পাখিদের সাস্থ্যের কথা চিন্তা করে বছরে মাত্র ৩ বার ব্রীড করান।বছর ঘুরতে না ঘুরতেই এই ৩ জোড়া থেকে প্রায় ০৬ জোড়া বাচ্চা পান। বাচ্চারা এক বছর পর নিজেরাই আবার বাচ্চা দিতে শুরু করায় পরের বছর শেষে বাচ্চা পান ১১ জোড়া এবং মোট পাখির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জোড়া। তৃতীয় বছর শেষে পাখির সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৫৭ জোড়া। এরপর ফ্লাইং কেইজে নতুন বাচ্চার স্থান সংকুলন না হওয়ায় নিরূপায় হয়ে বাচ্চা বিক্রি শুরু করেন, ২ মাস বয়সী প্রতি জোড়া ৭০০ টাকা করে। যারা পাখি কিনেন তারা পাখি পালনের উপকরণগুলো (খাবার, খাবার পাত্র, পানির পাত্র, খেলনা, খাঁচা, ভ্যাক্সিন ইত্যাদি) চায়। এবার তিনি নিজের জন্য ও বিক্রির জন্য বিভিন্ন সাইজের পাখির খাঁচা বানানোর জন্য একটি ওয়ার্কশপে কিছু খাঁচা তৈরির অর্ডার দিলেন। দেখলেন খুচরায় খাঁচা বিক্রি থেকেও কিছু ইনকাম করা যাচ্ছে। তারপর তিনি পাখির খাবার ক্রেতাদের সরবরাহ শুরু করলেন। বিদেশ থেকে উন্নতমানের ভ্যাক্সিন নিয়ে আসেন, এখান থেকেও কিছু আয় হয়। এখন আরিফ সাহেবের মূল পেশার বাহিরে বাজরিগার পাখি ও পাখি পালনের উপকরণগুলো বিক্রি থেকে খরচ বাদে প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

এই সাফল্যের রহস্য তার কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন-
# ভাল ব্রীডারের কাছ থেকে সুস্থ সবল পাখি কেনা, তাই ৩ মাস পর থেকেই বাচ্চা পেয়েছি।
# প্রতিদিন ফ্রেশ খাবার এবং পানি সরবরাহ, পাখির ঘর পরিস্কার করা।
# উচ্চমূল্ল্যের প্যাকেটজাত খাবার না কিনে, বাজার থেকে আলাদা আলাদা বিভিন্ন সীড কিনে নিজেই সিড মিক্স বানিয়ে খাওয়ান।
# অযথা কোন ঔষধ বা ভিটামিন না খাওয়ান।
# এগফুড প্যাকেটজাত না কিনে নিজেই ঘরে এগ ফুড বানিয়ে খাওয়ান।

নতুনদের জন্য আরিফ মাহমুদ

আরিফ মাহমুদ তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলা ভাষায় কবুতর নিয়ে “কবুতর লালন পালন রোগ ও চিকিৎসা” এবং এবং বাজরিগার পাখি নিয়ে “বাজরিগার লালন পালন রোগ ও চিকিৎসা” নামক দুটি বই লেখেন, পাখির জন্য USA হতে আনফিল্টার এসিভি আমদানী করেন। এছাড়া ২০১৫ সালে ফেসবুক গ্রুপ বার্ডকেয়ার চালু করে অগনিত পাখি প্রেমিকদের সহায়তা এবং দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। বাংলাদেশে একমাত্র তার বিজ্ঞাপনে লেখা থাকে- একদর, দরদাম করার জন্য ফোন করার কথা কল্পনাও করবেন না। পাখি প্রেমিকদের দ্বারা তৈরি, পাখি প্রেমিকদের জন্য এবং পাখি প্রেমিকদের দ্বারা পরিচালিত- ফেসবুক গ্রুপ বার্ডকেয়ার। আপনার পাখি সংক্রান্ত যেকোন সমস্যার জন্য বার্ডকেয়ার গ্রুপে জয়েন করুন। পাখি সংক্রান্ত যেকোন প্রয়োজনে 01731308568 (ইঞ্জিনিয়ার আরিফ মাহমুদ)।

বার্ডকেয়ার গ্রুপে জয়েন করুন: https://www.facebook.com/groups/birdcare/

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – পাখি পালনের জন্য প্রয়োজন পাখির জন্য সত্যিকার ভালবাসা। তবে মনে রাখবেন শুধুমাত্র টাকা উপার্জনের জন্য পাখি পালন করলে সফলতা পাবেন না। যদি আরিফ সাহেবের মূল পেশার বাহিরে প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা আয় করতে পারেন, আপনি একটু পরিশ্রম করলে অন্যান্য পেশার পাশাপাশি যদি কিছু টাকা ইনকাম করতে পারেন ক্ষতি কি?

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com

One thought on “বাজরিগার পালন করে আয়

  1. Pingback: বাণিজ্যিকভিত্তিতে পাখি পালন | eTips

Comments are closed.