১ টু ৯৯ শপ আইডিয়া ইনফো টিপস

মুখে যে যাই বলুন না কেন, যে কোন ব্যক্তিই উপহার পেলে খুশি হন। তাই উপহার দেয়ার রীতি ও সামাজিক ঐতিহ্য বহুদিনের। উপহারের সাথে জড়িয়ে থাকে অনেক স্মৃতি আর আবেগ। কেউবা না বলা কথা বলার জন্য বেছে নেন উপহার। সেটা যে দামের হোকনা কেনো। দেশের অনেক যায়গায় ১ টু ৯৯ শপ দেখা যায়, কিছু কিছু যায়গায় ১ টু ৯৯+ নামে শপ দেখা যায়। এখানে নাম দেখে বুঝা যায় এই শপের আইটেম সমূহের দাম কত, যাইহোক তারপরও বলছি এসব দোকানের প্রতিটি পণ্যের মূল্য সাধারণত ৯৯ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ৯৯+ শপে কিছু প্রোডাক্ট এর দাম ৯৯ টাকার বেশিও হয়ে থাকে। যাইহোক অল্প টাকায় এসব শপে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য, খেলনা, কসমেটিক্স, গহনা, শো-পিস, গিফট আইটেম ইত্যাদি পাওয়া যায়। সবার সাধ্য এক রকম নয়। এ যুগে তাই অল্প খরচে উপহার দেবার চেষ্টা করেন অনেকে। আর এই সব চাহিদার জন্য এসব ১ টু ৯৯, ৯৯+ শপ করেছেন অনেকে। তারা যেমন অন্যদের চাহিদা পূরণ করছেন সাথে একটি স্মার্ট বিজনেসও করছেন, বেকারত্ব দূর করছেন নিজেদের। একটি ব্যবসার সৃষ্টি হচ্ছে এভাবেই। এসব শপে শিশুদের, তরুণ-তরুণী এমনকি বুড়োদেরও মন ভোলায়। বর্তমানে জনপ্রিয় শপে পরিণত হয়েছে এই ৯৯ শপ। এখানে ৯৯ শপের কিছু আইডিয়া ও ইনফো দেয়া হল-

৯৯ শপের প্রোডাক্টঃ
গহনাঃ গলার সেট, চুড়ি, আংটি, ব্রেসলেট, হেয়ার বেন, ক্লিপ, মেহেদি, পায়েলসহ নানা রকম গহনা হতে পারে। আজকাল বাজারে ইমিটেশন, সিটিগোল্ড, স্টোন বসানো, স্টোন ছাড়া, প্লাস্টিকের, কাঠের, ঝিনুক-শামুকের, পোড়ামাটির, স্টিলেরসহ নানা ধরনের গহনা বাজার ঘুরলেই চোখে, কমদামের এসব কিছু আইটেম সংগ্রহ করতে পারেন। স্থানীয় ভাবে কিছু কুটির শিল্পের তৈরি গহনাও হতে পারে আপনার ৯৯ শপের পণ্য।

গিফটঃ বিভিন্ন সামিজিক দিবসে ফুল ও কার্ড হতে পারে শ্রেষ্ঠ উপহার। এছাড়াও ফটোফ্রেম (প্লাস্টিকের, কাঠের, কাচের, পাটের, পোড়ামাটির, বাশের হতে পারে), সিরামিকের মগ ও প্লেট, ছবি প্রিন্ট ওয়াল ঘড়ি, ওয়াল ঘড়ি, হাত ঘড়ি, পুতুল, চাবির রিং, ব্যাগ, পাঞ্চ, মানিব্যাগ, খেলনা ইত্যাদি হতে পারে আপনার ৯৯ শপের গিফট জোন।
রান্নাঘরের আইটেমঃ রান্না ঘরেও অল্প টাকার প্রয়োজনীয় অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। এগুলোর মধ্যে নাইফ, সবজি কাটার, চপার, সবজি স্লাইসার, ডাইসার, চামুচ, মগ, বাটি, প্লেট, কন্টেইনার, টিফিন বক্স, মসলার বক্স, ডাইনিং টেবিলের ম্যাট, হট ম্যাট, স্ট্যান্ড, পানির পট, লাইটার ইত্যাদি।

প্রসাধনীঃ প্রসাধনী ব্যবহার ও গিফট হিসাবে অনেকেই খুজেন। ক্রিম, পারফিউম, বডি স্প্রে, মেহেদি, কলপ, দেশি বিদেশি সাবান, টুথপেস্ট, ব্রাশ, মেকআপ, ক্লিঞ্জার, শ্যাম্পু, ফেসওয়াশ, তেল, মেনিকিউর, পেডিকিউর, মেয়েদের প্রোডাক্ট, ডায়পার ইত্যাদি।

পোশাকঃ ব্লক, বুটিক, মোজা, রুমাল, শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি, গেঞ্জি, হ্যান্ড পেইন্ট, ব্রাশ পেইন্ট, অ্যামব্রয়ডারি, জরি-চুমকির কাজসহ নানা মনকাড়া ডিজাইনে আর লাল, কমলা, মেরুন, নীলসহ নানা রঙের পোশাক হতে পারে আপনার এই মেগা শপের আইটেম।

কনফেকশনারিঃ চকোলেট, জেলি, বাটার, দধি, হোমমেড চকোলেট, বিস্কুট, চানাচুর, আইসক্রিম, ফ্রুট ও কেক। কেক ছাড়াও চকোলেট, বিস্কুট দিয়েও আকর্ষণীয় বাস্কেট তৈরি করা হয়ে থাকে। যারা ফল পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে সাজানো ফলের বাস্কেট। বিভিন্ন সফট ড্রিংক ও অন্যান্য খাবার দিয়ে ভরে দিতে পারেন আপনার শপের ফুড জোন।

অন্যান্যঃ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে সময়ে সময়ে কিছু প্রোডাক্ট সংগ্রহ করতে পারেন। মৃৎ শিল্পের পণ্য, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, গ্যাজেট, স্পিকার, বই, খাতা-কলম, নোট বুক, ডাইরি, কার্ড হোল্ডার, পেন হোল্ডার, ক্যালেন্ডার, আতর, সুরমা দানি, বক্স, ফাইল, লাইট, ঝুড়ি, জুতা, স্যান্ডেল, ক্রোকারিজ, পাপোষ, খেলনা, ওয়ালমেট, ডিভিডি, গেম, mp3 প্লেয়ার, রেডিও, টিভি রিমুট, ক্যালকুলেটর, মোবাইল চারজার, ছাতা, ক্রেস্ট, ডিজিটাল তসবিহ, জায়নামাজ  ইত্যাদি হতে পারে আপনার এই জোনে।

এছাড়াও আরও পণ্য যোগ করতে পারেন গ্রাহকের চাহিদার উপর ভিত্তি করে কিংবা উপরের তালিকার কিছু পণ্য বাদও দিতে পারেন।

কিভাবে শুরু করবেনঃ
এই ধরনের শপ গুলো ভিজিট করবেন আগেই। ঢাকার বড় বড় শপ, ৯৯ শপগুলো ঘুরে দেখবেন ( ৯৯ শপ না হলেও) যেমন- হলমার্ক, আর্চিস, কিংফিশ, আজাদ প্রোডাক্টস, আড়ং, রঙ, বাংলার মেলা, অঞ্জনস ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান দেখে নিতে পারলে ভালো হবে। এদের কাছ থেকে কিছু ইনফরমেশন পেতে পারেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল পণ্য সংগ্রহ করা। যেহেতু প্রোডাক্ট বিভিন্ন রকমের, সেহেতু সংগ্রহ করতে হবে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ভাবে। ঢাকার চকবাজার, নবাবপুর, কাঁটাবন, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, বাইতুল মোকাররম মার্কেট, পল্টন, স্টেডিয়াম মার্কেট সহ আপনার স্থানীয় বাজার থেকেও পণ্য সংগ্রহ করতে হবে। পণ্য সংগ্রহ করার দক্ষতার উপর এর লাভ-ক্ষতি নির্ভর করবে। পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন, পণ্য ডেকোরেশন, আপনার শপের অবস্থান, পণ্যের চাহিদার উপর নির্ভর করবে আপনার বিজনেস। আপনার শপের প্রচারনা থাকতে হবে, আপনার শপের ফেসবুক পেজ থাকতে পারে। দুই/এক জন পার্টনার বা সহকর্মী থাকতে পারে। দোকান ডেকোরেশন থাকলে লাখখানিক টাকা দিয়েই শুরু করে দিতে পারেন একটি স্মার্ট শপ। মনে রাখবেন গ্রাহকরা হাতের কাছে প্রত্যাশিত জিনিসপত্র প্রতিযোগিতামূলক দামে পেলে বাইরে যাবেন কেনো ? ওয়ান টু হানড্রেড , নাইনটি নাইন, নাইনটি নাইন প্লাস, ওয়ান ফিফটি ওয়ান, সেভেনটি ওয়ান এরকম বিভিন্ন নামেও শুরু করা যায় পণ্যের দামের উপর ভিত্তি করে। তবে কম দামের পণ্যের উপর মানুষের আকর্ষণ বেশি থাকে।
তো আপনার এই শপের নাম কি দিচ্ছেন? বেকার তরুণদের এই রকম উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। কেউ এরকম বিজনেসের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে আপনাদের অভিজ্ঞতা/ সহযোগিতা শেয়ার করবেন।
লেখাঃ মাহিন, ই টিপস।

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com