ভাইভার জন্য বেসিক প্রস্তুতি

ভাইভার জন্য বেসিক প্রস্তুতি:
চাকরীর লিখিত পরীক্ষার ফল পজিটিভ, এবার ভাইভার টেনশন? অনেকে বেশি টেনশন করেন, আর ফলে ভাইভাটাই খারাপ হয়ে যায়। এখানে ভাইভার আগে বেসিক প্রস্তুতি ও টিপস নিয়ে একটি পোষ্ট দেয়া হল-

সাধারণত ভাইভার আগে থিউরি পরীক্ষা হয়ে যাওয়ায় আলাদা করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য তেমন পড়তে হয় না। তাছাড়া মৌখিক পরীক্ষার আগের অল্প কিছুদিন সময়ে সব বিষয় পড়াও সম্ভব নয়। ভাইভাতে প্রত্যেক বিষয় বা কোর্স সম্পর্কে ব্যবহারিক প্রশ্ন বেশী করা হয়। তাই ব্যবহারিক বিষয়গুলো রিভাইজ করা দরকার। ভাইভাতে যে প্রশ্নগুলো করা হয়, তা হলো কোনো থিউরির এপ্লিকেশন ধরনের। যেমন, ওহমের সূত্রের প্রয়োগ। আগে থেকে খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করা দরকার যে, ভাইভা বোর্ডে কারা কারা আসবেন/থাকেন, তখন যে বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, সেগুলো নিয়ে একটু পড়াশোনা করে যাওয়া।

ভাইভা রুমেঃ
১) স্মার্টলি সোজা হয়ে ঢুকতে হবে।
২) ঢোকার সময় -আমি কি ভিতরে আসতে পারি/ May I come in Sir/ Madam?
৩) শুধু কলম ও প্রবেশপত্র সাথে নিয়ে প্রবেশ করা। সার্টিফিকেট, থিসিস পেপার থাকতে পারে।
৪) বসতে বললে-মেরুদন্ড সোজা করে বসা, হাত কোলের উপর রাখা, পা নাড়ানো, নখ কামড়ানো এগুলো করা যাবে না।
৫) কথা বলার সময় হাতের ও ফেস মুভমেন্ট দৃষ্টিকটু কিছু করা যাবে না।
৬) যে পরীক্ষক প্রশ্ন করবেন তাঁর দিকে তাকিয়ে উত্তর দিতে হবে।
৭) ভাইভা শেষে উঠে যাওয়ার সময় সালাম দিয়ে বিনয়ের সাথে বিদায় নিতে উঠে যাওয়া।

ভাইভাতে কেঁদে ফেললে, অসুস্থ হলে কিংবা অসুস্থতার ভান করলে শিক্ষকরা বিরক্ত হয়ে থাকেন। অনেক ছাত্রছাত্রী ভাইভাতে ঢুকে বলে তার মাথা ঘুরছে, কিছু পারে না, বমি আসছে, অসুস্থ ছিলো। এগুলো বলে আসলে খুব লাভ হয় না। পরীক্ষক কখনোই একজন পরীক্ষার্থীর ওপর সহানুভীতিশীল হন না এসব ক্ষেত্রে। শারীরিক-মানসিকভাবে ফিট থাকার জন্যে সেই মুহূর্তে কোনো আনন্দের স্মৃতিকে মনে করা যেতে পারে । আর নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই। শুধু ভাইভা রুমকে নিজের বাসা মনে করুন। ভাইভা বোর্ডকে মনে করেন নিজের ফ্যামিলি মিটিং। স্যারকে বাবা বা বড় ভাই, ম্যাডামকে মা বা বড় বোন মনে করেন । আয়নার সামনে দু/তিন দিন প্র্যাকটিস করুণ। নিজের জড়তাগুলো বাহির করে নিজেই তাঁর সমাধান বাহির করুণ।

কিছু কিছু বিষয় নীতিগতভাবে অনুসরণে সচেষ্ট থাকুন- তার মধ্যে প্রথমেই আসে ড্রেস-আপ মানে পোশাক-আশাক। বলাই হয়, আগে দর্শনধারী, তারপরে গুণবিচারী। শালীন পোশাক পরিধান করা উচিত। বুঝতে বা শুনতে অসুবিধা হলে ‘হুঁ’ বা ‘অ্যাঁ’ জাতীয় শব্দ না করে বলা-‘জ্বী’ বা ‘দয়া করে আবার বলুন’ (ইংরেজিতে বললে ‘সরি’ বলা।)। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে সেটা সঙ্গে সঙ্গে বিনীতভাবে স্বীকার করে নেয়া । মৌখিক পরীক্ষার সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব না-ও হতে পারে, এটা বাস্তবতা । দেশীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ এলে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করতে হবে, কোনো দলকে সমর্থন করা ঠিক হবে না। যেকোন অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নে বিব্রতবোধ না করা যাবেনা । অতিরিক্ত স্মার্ট হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।

মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্নের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীর সাহস, আত্মবিশ্বাস বা তাৎক্ষণিক বুদ্ধি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে চান শিক্ষকরা। তাই ‘আমি মৌখিক পরীক্ষায় ভালো করতে পারবো’-এই দৃষ্টিভঙ্গি একজন পরীক্ষার্থীকে ভাইভার পুরো সময়ে প্রশান্ত থাকতে এবং ভালো করতে সাহায্য করবে। আসলে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়াটাই বড় কথা নয়; বরং বোর্ডকে সন্তুষ্ট করতে পারাই আসল কথা।

এই পোস্টটি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করেছেন- মোঃ রাশেদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম।
ই টিপস বিডি।

ফেসবুকে কমেন্টস করতে, আপনার ফেসবুকে লগইন থাকতে হবে-

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com