শখের খরগোশ পালন, খরগোশ পালনে আয়

খরগোশ অতিশয় সুন্দর এবং দুরন্ত একটি প্রাণী। শখের বসে অনেকেই খরগোশ পালন করে। তবে বর্তমানে খরগোশ বাণিজ্যিকভাবেও পালন করা হচ্ছে। গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে এর অর্থনৈতিক আয়ের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা অনেকেই জানিনা যে, খরগোশ শুধু পোষার প্রাণী নয়, খরগোশের মাংস হালাল। এর মাংস মুরগির মাংসের মতোই সুস্বাদু এবং খুব নরম। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালরি আছে। মাংসে চর্বির পরিমাণও খুব কম। ব্যবহারিক দিক দিয়ে খরগোশের কোনো অংশই ফেলার মতো নয়। এর মাংস যেমন খাওয়া যায়, এর লোম দিয়ে গরম বস্ত্রও তৈরি করা হয়। এর চামড়াও অন্যান্য পশুর চামড়ার মতো গুণসম্পন্ন ও বিক্রি করা যায়। গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে এর অর্থনৈতিক আয়ের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীরা স্বল্প পুঁজিতে তাদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনতে পারেন খরগোশ পালনের মাধ্যমে। মাধ্যমে। পৃথিবীর অনেক দেশে বাণিজ্যিকভাবে খরগোশ পালন করা হচ্ছে। আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে খরগোশ পালন না হলেও কিছুটা হলেও কিন্তু শুরু হয়েছে। আমি শুনেছি ময়মনশিংহ এর কোন এক যায়গায় নাকি খরগোশ কেনাবেচার একটি হাট রয়েছে, সেখানে পোষা ও মাংসের জন্য খরগোশ কেনা-বেচা হয়। এর মাংস অন্যান্য প্রানির মাংসের মত ক্ষতিকারক না থাকায় ব্রয়লার মুরগির পরেই খরগোশ হতে পারে মাংসের ঘাটতি পুরনে অন্যতম। বর্তমানে গরুর মাংসের যে দাম ও চাহিদা সে দিক থেকেও খরগোশ কিন্তু অনেক সম্ভাবনাময়।

খরগোশ পালন

পালন পদ্ধতি
খরগোশ পালনের জন্য বিশেষভাবে ঘর নির্মাণ করতে হবে। কারণ এরা যেখানে থাকে সেখানেই খায়, সেখানেই ঘুমায় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে । খরগোশ পালন স্থানটি ঘন বসতি এলাকা হতে দূরে হওয়া ভালো, তবে বাড়ির ছাদ হতে পারে। হৈচৈ ও ধোঁয়ামুক্ত এলাকায় খরগোশ রাখতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্ক খরগোশকে রাখতে হবে পৃথক পৃথক খোঁপে। মা খরগোশকে রাখতে হবে বাচ্চাদের সঙ্গে। খরগোশ সাধারণত প্রতিবার ৫ থেকে ৬টি অনেক ক্ষেত্রে তারো বেশি বাচ্চা দিয়ে থাকে। স্ত্রী খরগোশ বছরে একাধিক বার বাচ্চা দিয়ে থাকে। এদিক লক্ষ্য রেখে খরগোশ এর বাসস্থান তৈরি করতে হবে। ইঁদুর ও ক্ষতিকর জীবজন্তু থেকে এদের রক্ষার জন্য ঘেরা ও নিরাপদ ঘর তৈরি করতে হবে।
খাবারঃ খরগোশের খাবার স্বল্প খরচে সহজলভ্য। এরা শস্যদানা, সবজি, খড়, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট, গাজর, সবুজ ঘাস, মুলা, বরবটি, ইত্যদি খেয়ে থাকে। আপনি সহজেই যেকোনো এলাকায় খরগোশের খাবার পাবেন।

দেশের বিভিন্ন যায়গায় খরগোশ পাওয়া যায়। ঢাকার কাঁটাবন মার্কেট বা পুরনো ঢাকার খরগোশ পালনকারীদের কাছ থেকেও খরগোশ সংগ্রহ করতে পারেন।

আগে অনেক মানুষ শখে পালন করত, এরা আদর ভক্ত । এদের মাঝে মাঝে কোলে নিয়ে একটু আদর করে দিলে দেখবেন এরা রীতিমত আপনার ভক্ত হয়ে গেছে। কান ধরে খরগোশকে তুলতে নেই এক হাতে ঘাড়ের কাছে আলাদা চামড়া এবং কান এক সঙ্গে ধরে অন্য হতে তার পিছনের দিকটায় ভার রেখে নাড়া চারা করতে হয়। পারিবারিক শ্রমেই সফলভাবে খরগোশ পালন করে লাভবান হওয়া যায়। খরগোশের মাংস নরম, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর, এতে ফ্যাট, কোলেস্টেরল ও সোডিয়ামের পরিমান কম থাকে তাই হার্টের রোগীকেও খাওয়ানো যায়।

খরগোশ পালনের বিস্তারিত তথ্যের জন্য এবং উন্নতমানের খরগোশ সংগ্রহ করার জন্য সাভার প্রজনন কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন। ময়মনশিংহের মুক্তাগাছায় প্রতি বুধবার খরগোশের হাট বসে সেখান থেকে খরগোশ সংগ্রহ করতে পারেন। নিচে একটি ভিডিও লিংক দেয়া হল, দেখে নিবেন একটু ধারনা পাবেন…

পোস্টটি শেয়ার করুন এবং এই সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় আপডেট থাকতে আমাদের পেজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন, ভাল থাকুন সবাই।
ফেসবুকে কমেন্টস করতে, আপনার ফেসবুকে লগইন থাকতে হবে-

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com

One thought on “শখের খরগোশ পালন, খরগোশ পালনে আয়

  1. Pingback: বাংলাদেশের এই বিশাল প্রযুক্তি জোনে স্বাগতম – ELS

Comments are closed.