কৃষি ডিপ্লোমা

কৃষি আমাদের গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। দেখা যায় বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ সামান্যই। সামান্যই কৃষি জমি থাকলেও সঠিক দিক নির্দেশনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারলে সেখানেই সোনা ফলানো যাবে। আর এমনই সীমিত সম্পদ দিয়ে বিপুল জনগোষ্ঠীর খাদ্য সমস্যা মেটানোর জন্য উন্নত যেসব ফলনশীল শস্য আর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষিবিদরা, সেগুলোই কৃষকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা। নিজের ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি কৃষিতে ডিপ্লোমাধারীদের রয়েছে দেশের উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ। চাকরি ছাড়াও নিজ উদ্যোগে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুবিধা তো আছেই। এ কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে আত্ন-নির্ভরশীল হতে যে কেউ বেছে নিতে পারেন কৃষি ডিপ্লোমা।

কাজের ক্ষেত্র-
* বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটে গবেষণা কাজের কিংবা মত্স্য অধিদপ্তর, পশুসম্পদ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন, মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র, ধান গবেষণা কেন্দ্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে কৃষি ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
* বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে উপসহকারী পরিচালক পদে, উপসহকারী কৃষি কর্মকতা পদে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
* কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করে যেকোনো শিক্ষার্থী কৃষি, মাছের চাষ ও পশুপালনের জন্য কাজ করে এমন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে পারেন।
* সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে কৃষি শিক্ষার শিক্ষক হিসেবে যোগদান।
* উপজেলা, জেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
* আর চাকরি করার অসুবিধা থাকলে ছোট পরিসরে অল্প পুঁজিতে কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানও শুরু করা যায়।

কৃষি ডিপ্লোমা কৃষি বিষয়ে পড়ার একটি ভাল সুযোগ । বাংলাদেশে অনেকগুলি (প্রায় ১৬টি) সরকারি ও কমবেশি প্রায় ৩০০টির মত বেসরকারি কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট রয়েছে ।

ভর্তির যোগ্যতা-
অন্যান্য ডিপ্লোমার ন্যায় এ কোর্সটিও ৪ বছরের। এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে কমপক্ষে জিপিএ-৩ প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীরা কৃষি ডিপ্লোমার জন্য আবেদন করতে পারবে। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগ ব্যতীত সাধারণ গণিত বা সাধারণ বিজ্ঞানে জিপিএ-২ সহ কমপক্ষে জিপিএ-৩ প্রাপ্ত ছাত্র/ছাত্রীরা আবেদন করতে পারবে।

উচ্চ শিক্ষার সুযোগ-
ডিপ্লোমা কৃষি প্রকৌশল থেকে পাস করার পর ইচ্ছে করলে উচ্চ শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভেটেরিনারি বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি করার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া নোয়াখালী সরকারি কৃষি ইনস্টিটিউটসহ বেশ ক’টি সরকারি ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা করার পর দুই বছর মেয়াদী একটি কোর্স রয়েছে।  তাছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতো আছেই। এগুলো ছাড়াও বিভিন্ন স্কলারশিপ নিয়ে দেশের বাইরেও পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে।

ই টিপস-
একটি দেশের উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নাই।
একটি খামার একটি বাড়ি, একটি আত্ন-নির্ভরশীল স্মার্ট জীবন।
আমদানি নয়, কৃষি পণ্য রপ্তানি করবো।
একটি কৃষি প্রতিষ্ঠান বা কৃষি শিল্পের উদ্যোক্তা হোন, বেকারত্ব দূর করুন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন