মাশরুম চাষে আয়

mashrum

মাশরুম চাষে আয়

মাশরুম হলো একধরনের ছত্রাক । একসময় মাশরুমকে ব্যাঙের ছাতা বলে অনেক হাসাহাসি করেছি আমরা। সেই মাশরুম আজ হয়ে গেছে অর্থকরী, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি। মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন খাবার তৈরি হয়। যেমন- ফ্রাই, চপ, চিংড়ি মাশরুম, মাশরুম চিকেন স্যুপ, নুডলস, কারি, আচার, রোল, সালাদ, মাশরুম চিকেন বিরিয়ানি ইত্যাদি। এ ছাড়া মাশরুম মাংস রান্নায় এবং রূপচর্চায় ব্যবহূত হয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু মাশরুম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। মাশরুম চাষের সকল উপকরণ যেমন- বীজ/স্পন, খড়, কাঠের গুঁড়া, আখের ছোবড়া অত্যন্ত- সস্তা ও সহজে পাওয়া যায় । যে কেউ কয়েকদিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে যে কেউ শুরু করতে পারেন এই মাশরুম চাষ। আর আয় করতে পারেন বাড়তি কিছু টাকা। আপনার যেকোন কাজের বা চাকরির পাশাপাশি মাশরুম চাষ করে এক্সট্রা কিছু টাকা ইনকাম করতে পারেন। এভাবে দেশের অনেকেই মাশরুম চাষ করে নিজের ভাগ্য বদল করেছেন।

এখানে মাশরুম চাষের কিছু ইনফো, আইডিয়া ও টিপস দেয়া হল-
সবার আগে প্রয়োজন প্রশিক্ষণ
মাশরুম চাষ করে এমন খামার ভিজিট করেই আপনি এটা শুরু করতে পারেন। যদি সে সুযোগ না পান তবে কয়েকদিন প্রশিক্ষন নিয়ে নিতে পারেন। মাশরুম চাষ ও প্রশিক্ষণের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সাভারে কৃষি সম্প্র্রসারণ অধিদপ্তর ‘মাশরুম চাষ সেন্টার’ নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে। এখানে প্রশিক্ষণের জন্য প্রশিক্ষণার্থীকে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পের মেয়াদ তিন দিন পর্যন্ত। এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের সরকারিভাবে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে কিভাবে মাশরুম চাষ করা যায়, কিভাবে বিপণন করা যায়, মাশরুম চাষের সমস্যা সুবিধা ইত্যাদি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহন করে থাকে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এনজিও মাশরুম চাষের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।

মাশরুম চাষ ও এ সংক্রান্ত বিষয়ে যাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, ইন্টারনেট থেকে কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করে আপনাদের জন্য দেয়া হল-

মাশরুম চাষ প্রশিক্ষন, বীজ ও লোনসহ ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য
গ্রীন বাংলা মাশরুম কর্নার
মাশরুম লাভলু
বি-১৯, বিটিআরসি মার্কেট, বগুড়া
মোবাইল: ০১৭১৬-৮৮৪৩৬৮

বীজ, তাজা, শুকনা ও পাউডার মাশরুম পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় এবং প্রশিক্ষন
খাদেম মাশরুম সেন্টার
শফিউল আজম খান
মোবাইল: ০১৯১৬-৮২০৪৫৮, ০১৭১৫-৪৭৫০১২
৫৮১/সি, খিলগাঁও, ঢাকা-১২২৯

মাশরুম উৎপাদন এবং ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র
সৈকত মাশরুম প্রকল্প
মো: সোহরাব আলী
মোবাইল: ০১৭১৬-৪০৮৮৮০
১০৪/১ কাতলাপুর, সাভার, ঢাকা

মাশরুম স্পন ও পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র
এম. আর. টি মাশরুম প্রজেক্ট
রতন ইসলাম
মোবাইল: ০১৭১৫-৮৭৩৭৮০
মডেল কলেজ রোড, ডগড়মোড়া, সাভার, ঢাকা

তাজা, শুকনা এবং মাশরুম স্পন (বীজ) বিক্রয় কেন্দ্র
সুখী মাশরুম
আবদুল হালিম
মোবাইল: ০১৯১২-৪১১৭৫৫
১৯/৯, আই ব্লক, ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকা

মাশরুম বীজ, মাশরুমের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (অটোক্লেভ মেশিন, পিপি, নেক, তুলা, রাবার) বিক্রয় কেন্দ্র
উদ্যম মাশরুম কর্নার
মো: সাইফুল ইসলাম (জামান)
মোবাইল: ০১৮১৬-৪৩০২৬৬, ০১৭১৬-৫০৩৮৩০, ০১১৯৯-১৬১২৯১
বি-১১১, সোবাহানবাগ, সাভার, ঢাকা

(উপরের প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ও ঠিকানা এগ্রোবাংলা ডটকম থেকে নেয়া হয়েছে, মাশরুম চাষ সম্পর্কে এগ্রোবাংলা ডটকমে আরও অনেক বিস্তারিত আলোচনা করা আছে। আপনারা কৃষি ভিত্তিক কিছু করতে চাইলে অবশ্যই এগ্রোবাংলা ডটকম ভিজিট করবেন।)

টিপসঃ
মাশরুম চাষা করতে বীজ, ধানের খড়, পাতলা পলিথিন ব্যাগ, ঝুলন- শিকা বা বাঁশ, ছিদ্রযুক্ত কালো পলিথিন সিট, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা পরিমাপের জন্য হাইগ্রোমিটার, ঘরের উষ্ণতা ও আদ্রর্তা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হ্যান্ড সপ্রেয়ার, জীবাণুনাশক, ব্লেড বা ছোট ছুরি, বালতি, আনুসাঙ্গিক অন্যান্য উপকরণ প্রয়োজন হবে।

যেকোনো সমান জায়গায় কম আলোয় মাশরুম চাষ করা যায়। বীজ বোনার পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই ফলন। আট থেকে দশ হাজার বীজ থেকে দৈনিক ১৫-১৮ কেজি মাশরুম পাওয়া যায়। মাশরুম কাঁচা, শুকনা এবং গুঁড়া করে বিক্রি করা যায়। তাই বাড়তি আয়ের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিতে পারেন মাশরুম চাষ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানতে পারবেন মাশরুমের চাষাবাদ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ প্রণালি, বাজারজাতকরণসহ অন্যান্য বিষয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক করতে হবে কী পরিমাণ ও কতটুকু জায়গায় চাষ করবেন। এরপর চাষের খরচ, স্থান নির্বাচন, প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ, বীজ সংগ্রহ করতে হবে ইত্যাদি। প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর প্রয়োজন পুঁজি, কিছু পুজি সংগ্রহ হয় তবে ১৬ ফুট বাই ৩২ ফুট এবং ১০ ফুট উচ্চতার একটি ঘরে সমতলে ছয়টি মাচা বা তাক (১ ফুট অন্তর অন্তর) তৈরি করত হবে। ৪ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৩ ফুট প্রস্থের একটি তাকে ৮০০-১০০০ বীজ চাষ করা যায়। মাটিভর্তি প্লাস্টিকের ব্যাগে বীজ বপন করতে হয় এবং বীজ বপনের মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যেই মাশরুম পাওয়া যায়। একটি ভালো মানের স্পূন থেকে প্রতি আড়াই মাসে ২০০-২৫০ গ্রাম মাশরুম উৎপাদন করা যায়। মাশরুম বিভিন্ন জাতের হয়ে থাকে যেমন ওষধি গুণসম্পন্ন জিএল-৪ ও জিএল-৭, মিল্কী, গ্রীষ্ম এবং বর্ষায় ‘স্ট্র মাশরুম’ এবং শীতকালে ‘ওয়েস্টার’ জাতের মাশরুম চাষ উপযোগী। মাশরুম চাষের জন্য বীজ পাওয়া যাবে উপরের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অথবা আপনি আপনার পরিচিত কোন পুরনো কোন চাষির কাছ থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন। মাশরুম চাষে তাপমাত্রা খুব গুরত্তপুরন বিষয়, স্যাঁতস্যাঁতে রাখতে বীজে পানি স্প্রে করতে হয়। বর্ষাকালে বেশি মাশরুম উৎপন্ন হয়ে থাকে। সঠিক পদ্ধতিতে উৎপাদন করতে না পারলে ঝুঁকির মধ্যেও পড়তে পারেন। সঠিক তাপমাত্রার অভাব ছাড়াও বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন- তেলাপোকা, মাছি, ইঁদুর, মাকড়সা ইত্যাদি আক্রমণের শঙ্কা আছে। এসব ক্ষতিকর পোকামাকড়কে সঠিক পদ্ধতিতে প্রতিকার করতে হবে। বাজারজাত করতে আপনার স্থানীয় বাজার ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন রেস্তরাঁ, চাইনিজ রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড, চেইন সুপারশপ গুলোতে মাশরুম সরবরাহ করতে পারেন।

• ঘরে বসে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করা যায়।
• বাড়ির সবাই একাজ করতে পারবে, তাই সহজেই এটা শুরু করে দিতে পারেন।
• বেশি জায়গার প্রয়োজন নাই।
• অল্প পরিসরে শুরু করে নিজের ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা দূর করতে পারেন।
• এ সবজিটি ঘরের মধ্যে চাষ করা যায় এবং মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যেই মাশরুম পাওয়া যায়।
• মাশরুমের বীজ ছাড়া সকল উপকরণ সহজে সবজায়গায় পাওয়া যায়।
• ১০০ গ্রাম মাশরুমের উত্পাদন খরচ যেখানে মাত্র ২০ টাকা, সেখানে বিক্রয় মূল্য ১১০ টাকা (কিছু কমবেশি হতে পারে)
• বিক্রির অসুবিধা হলে মাশরুম সংরক্ষণ করা সম্ভব বলেই এটা একটি লাভজনক ব্যবসা।
•একটা কথা মনে রাখবেন, প্রায় তিন লাখ ছত্রাকের মধ্য থেকে মাত্র ১০ প্রজাতির ছত্রাক খাওয়ার উপযোগী। তাই আপনার আশেপাশে প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা মাশরুম (ব্যাঙের ছাতা) খাওয়ার উপযোগী নয়, বরং সেটা বিষাক্ত।

সবাইকে কোন না কোন কর্ম করেই খেতে-চলতে হবে। কেউ অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে কেউ আপনার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে। শিক্ষিত হয়ে বেকার থেকে শুধু নিজের ভাগ্যকে দোষ দিবেন না, আপনার ভাগ্য আপনাকেই তৈরি করে নিতে হবে। কেউ একদিনে বড় হতে পারেনি। উদ্যোগ নিয়ে লেগে থাকুন সফলতা আসবেই। আপনি নিজের বেকারত্ব দূর করুন, আপনার এলাকার কিছু লোকেরও বেকারত্ব দূর করতে সাহায্য করুন।

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com