প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা, প্রিয় বালিকা- মৃণাল কান্তি রায়।

প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা, প্রিয় বালিকা,

এবারের ভালোবাসা দিবসে তোমার নব্য প্রেমিককে যে টুকটুকে লাল গোলাপটি দিয়েছ, হয়তো তুমি বোঝনি- ওটা আমার হৃদয় ছিল, তোমাকে না-পাওয়ার অভিমানে অমন রক্তাক্ত হয়েছে। আর ফুলটির গায়ে যে ফোঁটা ফোঁটা জমে থাকা শিশিরকণা ছিল, সেসব আমার না-ঘুমানো বহু রাত্রির জমানো গোপন কান্নার জল, দেখলে না- তোমার হাতের ছোঁয়া পেয়েই কেমন আহ্লাদে ঝরে গেল!

ভালোবাসি তোমাকে, প্রিয় বালিকা!

প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা,

আজ আমার বুকে যে বিরহের আগুন, তোমার বুকেও যদি সেই একই আগুন হয়- তবে তুমি সে আগুনে জ্বলে পুড়ে খাঁটি হয়ে, গিনি হয়ে, গহনা হয়ে প্রিয়জনের ভালোবাসার শোকেসে ঠাই পাও, শোভিত-আলোকিত-রঙিন করো প্রিয়জনের হৃদমহল, সে আশির্বাদ রইলো নিরন্তর...।

আর আমি যদি সে আগুনে পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাই, তোমাকে না-পাওয়ার অতৃপ্তির আঘাতে প্রতিনিয়ত ভেঙে ভেঙে যাই, ক্ষতি কী? ভাঙতে ভাঙতে, পুড়তে পুড়তে- একদিন গড়ে তুলবো ছাইরঙা সুখের বিরহভুবন। যেখানে কাটাবো বাকিটা জীবন, বড্ড তুমিহীন!

ভালোবাসি বলে প্রিয় বালিকার লাগি আমার এই ভেঙে যাওয়াতেই আনন্দ, দগ্ধ হওয়াতেই তৃপ্তি, নিঃস্ব হওয়াতেই পূর্ণতা।

প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা,

জানো, তুমিহীন এই একটা বছর কেটেছে উদ্ভ্রান্ত উদাসীনতায়, কেটেছে বিষাদের সাথে বিষম দুঃসহবাসে। তুমিহীনতাই বা বলছি কেন! তুমি তো ছিলে, আছ, থাকবে। প্রতিটা মুহূর্তই তোমাকে অনুভব করি। অনুভব করি তুমি যেন বুকের ঠিক মাঝখানে বসে আছো অনিবার নীরবতায়। নিজের জন্য যেটুকু কষ্ট, তারচে তোমার জন্যই দুর্নিবার কষ্ট হয়।

প্রিয় বালিকা, বিশ্বাস করো তোমাকে একটুও ভুলিনি। সত্যি বলতে তোমাকে কখনও ভুলে থাকবার চেষ্টাই করিনি। আমাকে ভুলতে পারার দরুণ তোমার উচ্ছল চেহারা আর হাসিমুখ কল্পনা করে নিজেকে আনন্দ দিয়েছি। বেদনার আচ্ছাদনে ঢাকা আমি সুখি তোমাকে বুকে পুষে রেখে ভালো থাকবার তীব্র তুমুল চেষ্টা করেছি। সময় পেলেই টইটই করে ঘুরে বেড়িয়েছি, ব্যস্ত থাকার অপচেষ্টা করেছি। বুঝি বা একেবারে ব্যর্থ হইনি! এখন আমি রোজ বিরহের বৈকুণ্ঠে বসে হাহাকারের সাথে মেতে উঠি উদ্বেলিত উচ্ছ্বাসে। ভালোই হলো, বিরহ আজকাল আমার নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হয়েছে!

প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা,

মগজের ভেতরের কীটপতঙ্গেরা অবিরল সবিস্তারে তোমার গল্প বলে; নিস্তার মেলে না। যদিও বা মেলে, নিঃসঙ্গতা আড়মোড়া ভাঙে চোখের জলের কোলাহলে। তোমাকে ভুলে যেতে চাইলে শোরগোল বেঁধে যায় স্মৃতির সপ্তর্ষিমণ্ডলে। গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে রটে যায়- তুমি আমার ছিলে, আমারই আছ, আজও তুমি আছ আমার সমস্ত অস্তিত্বজুড়ে তেমনি জ্বলজ্বলে। তোমার চোখে যখন বরষাজল, ঠোঁটে যখন বিষমাদল, হাসিতে যখন বিদ্রুপকল্লোল, তখনও আমি তোমাকে ভালোবাসি...

প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা

"নির্জন রাত্রির ক্যানভাসে বিষাদের আঁকিবুকি। তুলির কোমল আঁচড়েও অস্ফুট আর্তনাদ কত রাত্রির নির্জনতা ভেঙে দিতে পারে- তা যদি সে জানতো!" - প্রিয় স্বপ্নময়ী'র মা, তুমিহীনতায় দিন-রজনী যে আর কাটে না হায়!!

প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা,

জানো, আজও তোমাকে আগের মতোই বড্ড ভালোবাসি ! বড্ড বেশি ভালোবাসি! ভালো থেকো খুব। খুব সুখি হও।

প্রিয় স্বপ্নময়ী'র মাকে হারিয়েছি, সেই সাথে হারিয়ে গেছে এক জীবনের সমস্ত স্বপ্ন, আকাঙ্খা, ভালোবাসা। থমকে গেছে হাসি, আনন্দ, উচ্ছ্বাসের গতি-প্রবাহ। ভেতর থেকে বেঁচে থাকার তাগিদ অনুভব করি না আজকাল। আমি যেন জীবনের আলপথে পথভোলা এক উদ্ভ্রান্ত পথিকমাত্র।

কিন্তু আমি চাই- অন্তত আমার মত কেউ না হোক, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস বিষাদের বাষ্পে রুদ্ধ না হোক। জীবনের বহু অধ্যায় বাকি থাকতে প্রারম্ভেই ভেঙে পড়লে চলবে কেন? হতাশার মেঘ দুহাতে সরিয়ে দাও, আলো আসবেই! জীবনের আঁধার কেটে যাবেই কোন একদিন, বিষাদ কুয়াশা ফুঁড়ে নতুন আলো ফুটবেই!
উচ্ছ্বাসে বাঁচো, স্বপ্নের পিঠে সওয়ার হয়ে ছুটতে থাকো, সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছুতে সময় লাগবে না...


লিখেছেন- মৃণাল কান্তি রায়।
মৃণাল

মৃণাল কান্তি রায়

প্রিয় স্বপ্নময়ী’র মা,

মৃণাল কান্তি রায় এর লেখা নিয়ে অবশ্যই ফেসবুকে কমেন্টস করবেন, আপনার ফেসবুকে লগইন থাকতে হবে-

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com