লালমনিরহাট কালীগঞ্জের “সুকানদিঘী পুকুরটি” হতে পারে বিনোদন কেন্দ্র!

উত্তরবঙ্গের অন্যতম অবহেলিত জেলা লালমনিরহাট। এক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম মঙ্গাকবলিত জেলা ছিল। কালের আবর্তে আজ অর্থনীতির চাকা সচল করে অন্যান্য জেলাগুলোর মতই লালমনিরহাট জেলা আজ স্বনির্ভর। লালমনিরহাট জেলায় পর্যটন বিশাল সম্ভমনা রয়েছে। অনেক গুলো দর্শনীয়স্থান রয়েছে। দর্শনীয়স্থান গুলোর মধ্যে তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল, তিস্তা ব্যারাজ ও অবসর রেস্ট হাউজ, বুড়িমারী স্থলবন্দর, তুষভান্ডার জমিদারবাড়ি, কাকিনা জমিদারবাড়ি, সিন্দুরমতি দীঘি, কালীবাড়ি মন্দির ও মসজিদ, বিমানঘাঁটি, তিস্তা রেলসেতু, লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর। আজ আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করব। বহুল আলোচিত জেলা লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ও চলবলা দুই ইউনিয়নের মধ্যেবর্তী স্থানে সুকানদিঘী পুকুরটির (৯ একর) যায়গা নিয়ে অবস্থিত। পুকুরটি কখন কিভাবে খনন করা হয় এ নিয়ে স্থানীয়দের নানার প্রশ্ন থাকলেও ইতিহাস অনুসন্ধান করে যানাযায়, আজ থেকে প্রায় ৮ শত বছর পর্বে পুকুরটি খনন করা হয়েছিল। তবে কেউ কেউ মনে করেন পুকুরটি কোনো “দেবতা ” খনন করেছেন। এখানে হিন্দুধর্মল্বী মানুষদের বিয়ে সাধির নানার আয়োজন করা হতো। এতে অনেকে বলে থাকেন। তবে জ্ঞানী ব্যক্তি মহল মিনে নিতে নারাজ। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ইতিহাসবিদ ( শামসুর আলম) লেখেন, ১২০৫ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি দিল্লী থেকে এক বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে আসামের ( কামরুপ) জয় করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে বহু সৈন্য পরাজিত হলে দিল্লীর অভিমূখে ফিরত যাওয়ার প্রাক্কালে পশ্চিম দিনাজপুরের বালুরঘাট অঞ্চলের (চেঙ্গসপুর) গ্রামে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি নিহত হন। বহু বছর সাধনার পর উল্লেখত ইতিহাসবিদ ( শামসুর আলম) চেঙ্গসপুর গ্রামে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির ( কবর খানা) আবিষ্কার করেন।তারই তথ্য অনুসারে আমরা জানি,আজ থেকে প্রায় ৮ শতবছর পর্বে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ও চলবলা ইউনিয়নের মধ্যেবর্তী স্থানে ” সুকানদিঘীর” পুকুরটি ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির সৈন্য বাহিনীকে এক স্থানে দার্ঘদিন থাকতে হতো এসব সৈন্য বাহিনীর পানি ও জল সরববাহ করার জন্য সুকানদিঘী পুকুরটি খনন করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় পুকুর গুলো খনন করা হয়। বর্তমানে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার( ৯ একর) জমি নিয়ে ” সুকানদিঘী ” পুকুরটি অবস্থিত। জেলার মধ্য সুকানদিঘী বা সুকান পুকুরটি আকার সৌন্দর্যময় এবং বড় দিঘী। সুকানদিঘী পুকুরটি অবস্থান : লালমনিরহাট সদর থেকে ২৩কিলোমিটার পশ্চিমে নামুড়ী বাজার থেকে ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সুকানদিঘী পুকুরটি অবস্থিত। এ দিঘী জলধারা নয় বা ঐতিহাসিক কীর্তি নয়,এক বিশাল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যরের অধিকারী। অর্থাৎ ভবিষৎ সরকারি ভাবে প্রদক্ষেপ নেওয়া হলে একটি মনোরম পার্ক হতে পারে। পুকুরের চার পাশে বসাবসের জন্য “হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ “সরকারের সময়, গরীব অসহায় দরিদ্র ব্যক্তিদের আশ্রায় প্রদান করেন যা আজ গুচ্ছা গ্রাম নামে পরিচিত। তারাই এখন পুকুরটি নিজ নিয়ে মৎস চাষ করেন। এ পুকুরের নাম কেন সুকানদিঘী রাখা হয়েছে, পুকুরটি বছরে একবার চৈত্র মাসের দিকে পানি ও জল শুকিয়ে যায় তাই স্থানীয় বিজ্ঞ মহল নাম রাখেন সুকানদিঘী বা সুকান পুকুর। পাশে একটি বাজার অবস্থিত পুকুরের নামে সুকানদিঘী বাজার পরিচিত।

সুকানদিঘী পুকুরটি

সুকানদিঘী পুকুরটি

তথ্য ও ছবি সংগ্রহে : আজিজুল ইসলাম বারী, সুকানদিঘী, কালীগঞ্জ,লালমনিরহাট।

ফেসবুকে কমেন্টস করতে, আপনার ফেসবুকে লগইন থাকতে হবে-

এই পোস্টটি শেয়ার করুন