ভলিবল খেলার নিয়ম-কানুন

ভলিবল কোর্ট
ভলিবল ১৮ মিটার(৫৯ ফুট) লম্বা ও ৯ মিটার(২৯.৫ ফুট) চওড়া কোর্টে খেলা হয়,  যা একটি নেট দ্বারা দুটি ৯ মিটার অর্ধে বিভক্ত। নেটটি চওড়ায় ১ মিটার এবং এর শীর্ষ প্রান্ত কোর্টের কেন্দ্রের ভূমি থেকে ২.৪৩মি(পুরুষদের জন্যে) ও ২.২৪মি(নারীদের জন্যে) উচ্চতায় অবস্থিত। যদিও শিশু- কিশোর ও বয়স্কদের জন্যে উচ্চতার প্রয়োজনমতো পরিবর্তন ঘটে। চামড়ার বলের পরিধি ৬৫ থেকে ৬৭ সেন্টিমিটার এবং ওজন ২৬০ থেকে ২৮০ গ্রাম।

ভলিবল খেলার মাঠ

ভলিবল খেলার নিয়ম-কানুন

ভলিবল খেলার নিয়ম-কানুন
অন্যান্য খেলার মত ভলিবল খেলায়ও টস হয়, টস বিজয়ী দল হয় সার্ভিস করবে বা কোর্ট পছন্দ করবে। একজন করে রেফারী, আম্পায়ার, স্কোরার এবং দুজন লাইন জাজ দ্বারা খেলা পরিচালনা করা হয়। খেলা চলাকালীন বলকে বিপক্ষের কোর্টে পাঠানোর জন্য একদল সর্বাধিক তিনবার বলটিতে স্পর্শ বা আঘাত করতে পারবে। একজন খেলোয়াড় পরপর দুইবার বলে স্পর্শ করতে পারবে না। সার্ভিস করার সময় একবারেই বলকে বিপক্ষের কোর্টে পাঠাতে হবে। শরীরের যে কোনো অংশ দিয়ে বলে আঘাত করতে পারবে, আগে শুধু হাত ব্যবহার করে বল পারাপার/ আঘাত করা যেত । সার্ভিসের বল যদি নেট স্পর্শ করে বিপক্ষকোর্টে যায় তাহলে সঠিক বলে ধরা হয়।

ভলিবল খেলার সময়

ভলিবল খেলার সময়

১২ জন খেলোয়াড় নিয়ে একটি দল গঠিত হবে। মাঠে ৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হবে। প্রতি সেটে সর্বাধিক ৬ জন খেলোয়াড় বদল করা যাবে। খেলা আরম্ভের সময় সামনের সারিতে ৩ জন ও পেছনের সারিতে ৩ জন খেলোয়াড় দাঁড়াবে। যে দল সার্ভিস করে সেই দল যদি বলটির র‌্যালির সমাপ্তি নিজেদের পক্ষে রাখতে পারে অর্থাৎ নিজেদের কোর্টে বলকে মাটি ছুঁতে না দেয় বা নেট পার করে প্রতিপক্ষের কোর্টের বাইরে না ফেলে তবে একটি পয়েন্ট লাভ করবে। আর র‌্যালির সমাপ্তি যদি বিপক্ষ দলের পক্ষে যায় তাহলে সার্ভিসের দিক পরিবর্তন হয়।

যে দল আগে কমপক্ষে ২ পয়েন্টের ব্যবধানে ২৫ পয়েন্ট অর্জন করবে, সে দল সেট বিজয়ী হবে। যদি উভয় দলের পয়েন্ট ২৪-২৪ হয় তাহলে এক্ষেত্রে ডিউস হবে এবং ২ পয়েন্টের ব্যবধান না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলতে থাকবে। তবে পঞ্চম সেটে যে দল আগে ২ পয়েন্টের ব্যবধানে ১৫ পয়েন্ট অর্জন করবে, সে দল বিজয়ী হবে। আর যদি উভয় দলের পয়েন্ট ১৪-১৪ হয়, তাহলে ২ পয়েন্টের ব্যবধান না হওয়া পর্যন্ত খেলা চলতে থাকবে। ভলিবল প্রতিযোগিতায় ৫টি সেটের মধ্যে যে দল ৩টি সেটে জয়লাভ করবে সে দলই বিজয়ী হবে। প্রতি সেট শেষ হওয়ার পর উভয় দল রেফারীর সংকেতে কোর্ট বদল করবে।

ভলিবল খেলার কিছু ইতিহাস
* এ খেলাটি ১৮৯৫ সালে আবিষ্কার করেন আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের অধিবাসী উইলিয়াম জি. মর্গান।
* ১৮৯৭ সালে ভলিবল খেলার আইন-কানুন প্রথম পুস্তিকাকারে প্রকাশিত হয়।
* ১৯৬৪ সালে টোকিও অলিম্পিকে ভলিবল প্রতিযোগিতার ইভেন্টে অন্তর্ভুক্ত হয়।
* ১৯৪৭ সালে ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক ভলিবল ফেডারেশন গঠিত হয়।
* ১৯৪৯ সালে সিনিয়র বিশ্ব ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ, ১৯৫২ সালে জুনিয়র বিশ্ব ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ, ১৯৬৫ সালে পুরুষ ভলিবল বিশ্বকাপ, ১৯৭৩ সালে মহিলা বিশ্বকাপ ভলিবল, ১৯৭৭ সালে বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ চালু হয়।
* বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে সরকারি উদ্যোগে জাতীয় ভলিবল ফেডারেশন গঠন করা হয়।

Share this post for your friend (সবার জন্য এই লিংকটি শেয়ার করুন)

PinIt
শুধু পাঠক হিসাবে নয় আমরা আপনাকে চাই একজন শিক্ষক ও লেখক হিসাবে। প্রয়োজনীয় ছবি সহ আমাদেরকে লিখুন ইমেইলে- etipsbdinfo@gmail.com